Wednesday, July 19, 2017

যৌতুক কে না বলুন

যৌতুক রোধে সচেতনতাঃ
কুসুম একরকম বিবস্ত্র হয়েই বাবার বাড়িতে পৌঁছায়। সারা শরীরে যৌততুকের ক্ষত। গঞ্জের ফ্লেক্সিলোডের দোকানে কাজ করে পাশের গাঁয়ের গোফরান। কুসুমের শরীরের বর্ণ আর সৌন্দর্য্যে আকৃষ্ট হয়ে গোফরান বিয়ের প্রস্তাব দেয়। ওর কাছে কুসুমের পরিবারের আপত্তি টেকেনি। শুকুর আলী বিশ হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে গোফরানের সাথে কুসুমের বিয়ে দিতে বাধ্য হয়। কুসুম তখন গ্রামের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। তারপর শুরু হয় কুসুমের ওপর নির্যাতন। গোফরানের একই কথা, বাপের বাড়িথ্থন ট্যাকা আনবি। আমি বিদেশ যাবে।
প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি যৌতুক প্রথা। গরিবের ঘর থেকে শুরু করে নিম্মবিত্ত, মধ্যবিত্ত, ধনী, শিক্ষিত সব পরিবারেই যৌতুক অভিশাপের মত ছড়িয়ে আছে। নারী নির্যাতনের মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে যৌতুক। এটি একটি কঠিন সামাজিক ব্যাধি এবং কু-প্রথা। যৌতুকের কারণে যেমন নারীর বিয়ে হয় না, ঠিক তেমনি বিয়ে হলেও যৌতুকের কারণেই সংসার ভেঙ্গে যায়। আবার অনেককে স্বামীর ঘরে নির্যাতন সহ্য করেতে হয়, আবার কাউকে প্রাণও দিতে হয়। অথচ আমাদের দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীই নারী । আর এ নারী পণ্য নয়, তারাও মানুষ । যৌতুকজনিত নির্যাতনের ক্ষেত্রে মাদক ও জুয়ার ভূমিকা ব্যাপক। মাদকাসক্ত ও জুয়াড়িদের মধ্যে স্ত্রী নির্যাতনের প্রবণতা বেশি।
বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে মতকরা ৫০ ভাগ বিবাহিত নারী যোতুকের কারণে শারীরিক অথবা মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যানুযায়ী ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ১৬ জন এবং ফেব্রুয়ারিতে ১৬ জন নারীকে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে। ২০১৪ সালের জানুয়ারি হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৩৬ জন নারীকে হত্যাা এবং নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে ১৯৫ জন নারীকে। পুলিশের পরিসংখ্যান
অনুযায়ী ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সালের মে মাস পর্যন্ত নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা
হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ১৯২ টি। প্রতি বছরই হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বহু নারী।
(নারীদেরকে যৌতুকের ছোবল থেকে মুক্ত করতে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে সমাজের সচেতন শিক্ষিত প্রভাবশালী ব্যক্তি, সমাজসেবক, রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী, ডাক্তার, প্রকৌশলী, কবি-সাহিত্যিক, শিক্ষক, ছাত্র অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন। সংস্কারক রাজা রাম মোহন রায়ের ঐকান্তিকপ্রচেষ্টায় ঐতিহাসিক সতীদাহ প্রথা বন্ধ হয়। তারই সামাজেক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৮২৯ সালে এ প্রথা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়। এই প্রথা রহিত করার জন্য সোচ্চার ছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিকও। যার কল্যাণময় ফল আর ভারত সমাজদেহে প্রচ্ছন্ন রয়েছে। এ দেশের যৌতুক প্রথা বন্ধের তাদের মত মহৎ ব্যক্তির প্রয়োজন এবং তাদের কর্তব্য নির্ধারণের সময় এখনই।
 যৌতুক প্রথা বন্ধে কার্যকর শক্তি যুব সমাজও। যৌতুকের ভয়াবহতা উপলব্ধির পাশাপাশি প্রতিটি এলাকা-মহল্লায় যৌাতুকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যৌতুককে সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে প্রতিহত করতে হবে। যে চেতনা ও শক্তির বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি, একটি দেশ পেয়েছি, সেই চেতনায় গড়ে ওঠা কর্মপন্থা নিঃসন্দেহে যৌতুক প্রথা বিমোচনে শক্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যৌতুক বিরোধী সেমিনার, সভা, তথ্য কণিকা প্রকাশ, পাঠ্য বইয়ে যৌতুক বিরোধী গল্প, প্রবন্ধ সংযোজন করতে হবে। বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণীর পাঠ্য বইয়ে। কারণ পঞ্চম শ্রেণী সমাপ্ত করার আগে বা পরে সিংহভাগ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। চলচ্ছিত্রের কাহিনীতে, বেতার-টেলিভিশনের নাটকে যৌতুকের ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরতে হবে।

অন্যদিকে আমাদের নিবৃত আলোর শিখার সদস্যদের মতে যৌতুক হল একটা ব্যথার দান। আর এই ব্যথার দান গ্রহন করে কেউ কখনো সুখি হতে পারে না। আমরা মনে করি যারা যৌতুক নেয় বা যৌতুকের লালসা করে তারা কৌতুকের পাত্র ছাড়া আর কিছু নয়। তাদের অদৃশ্য ভয়ংকর শিং থাকতে পারে, হিং¯্র থাবা দেওয়ার মতো বিষাক্ত নখের ছোবল থাকতে পারে, আল স্কষ্টেপে মোড়া ককটেলের মতো ধংসের বিস্ফোরণ দুটি চোখ থাকতে পারে, থাকতে পারে আরও বেশি কিছু তবে সে আমাদের কাছে এসবের জন্যই কৌতুকের বা হাসির পাত্র হয়ে গেছে। কারন এটা একটা মানুষের রূপ হতে পারে না । এই সব কিছু মানুষ হিসেবে তার অযোগ্যতাকেই তুলে ধরে আমাদের সবার সামনে। আসুন আজ আমরা তরুণ সমাজ রুখে দাঁড়াই নতুন স্লোগন নিয়ে।- ”যৌতুক নিয়ে কৌতুকের পাত্র হবো না, কৌতুক করে কাউকে যৌতুক নিতেও দিবো না। আসুন, আমরা যৌতুককে ঘৃণা করি আর নিজেদেরকে রক্ষা করি। আসুন, এই জঘন্য ঘৃণ্য শব্দটা আমাদের বাংলা অভিদান থেকে আমাদের সমাজ থেকে একেবারই তুলে দেই। তাই চলুন, আমরা নতুন করে শুরু করি-” যৌতুক নিয়ে নিজেকে ছোট করবো না, আর যৌতুক দিয়ে প্রিয়জনকেও ছোট করবো না”
আমাদের ধর্মে যৌতুক নেই, আছে দেনমোহর। যা বিয়ের সময় মেয়েদেরকেই দিতে হয়। কিন্তু আমরা করি এ উল্টাটা।  আমরা অথামাদের জীবনকে সুখি ও শান্তিময় করে গড়ে তুলতে চাইলে অবশ্যই যৌতুক নিবোও না দিবোও না, আমরা আমাদের ধর্ম মেনে চলবো। ইনশাল্লাহ!

অবশেষে আমরা বলতে চাই নারীকে দিতে হবে তার ন্যায্য অধিকার ও সম্মান। বিয়ে নামক পবিত্র বন্ধনে যৌতুক নামক অভিাশাপ দূর করতে হবে।

No comments:

Post a Comment